আইনজীবী ও বহিরাগতদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ১২

 চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতি ভবনে একটি সালিসকে কেন্দ্র করে আইনজীবী ও বহিরাগতদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সমিতি ভবন।

আইনজীবী ও বহিরাগতদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ১২

মারামারিতে ছয়জন আইনজীবী ও বহিরাগত মিলে ১০-১২ জন আহত হন। বহিরাগত আহত দুজনকে ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছ।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার পর পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ব্যাপারে সাত জনকে আটক করা হয়েছে।

ঘটনার পর রোববার (১৭ মে) রাতে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসিব মামলা দায়েরের জন্য সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দিয়েছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আদালতের নির্দেশে আইনজীবী সমিতিতে একটি সিআর (আদালতে দায়ের করা মামলা) মামলার বাদী-বিবাদী উভয়পক্ষকে নিয়ে সালিশ চলছিল। ওই মামলার বাদী আইনজীবী সমিতির সদস্য মো. রাসেল আহম্মেদ রনি। সালিশ চলাকালীন কিছু বহিরাগত জোরপূর্বক একটি সালিশনামায় রাসেল আহম্মেদ রনির স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বহিরাগতদের হামলায় ছয় আইনজীবী আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন- আব্দুর বারী-১, আব্দুর বারী-২, বশির আহম্মেদ, নাহিদ ইবনে মিজান, ফরহাদ হোসেন, সামিউল ইসলাম মিলন।

আবু হাসিব জানান, আইনজীবীরা বহিরাগত সাতজনকে আটকে রেখে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।

পুলিশ জানায়, থানায় পাঁচজন ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মারামারি ঘটনায় উভয়পক্ষ সমিতির নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে রড ও লোহার পাইপ সংগ্রহ করে ব্যবহার করে।

বিবাদী পক্ষের আইনজীবী মাসুদ রানা বলেন, বহিরাগতদের আচরণের কারণে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সাবেক পৌর কাউন্সিলর দুলাল হোসেন ও বহিরাগতররা সমিতি ভবনে আসে। কে তাদের ডেকেছিল এটা জানা নেই।

এ ব্যাপারে সাবেক কাউন্সিলর দুলাল হোসেন বলেন, সোনামসজিদ বন্দরে পাথরের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে মামলা হয়। এ মামলার বিষয়ে সালিশ চলছিল। সালিশের একপর্যায়ে আমি শৌচাগারে যাই। বের হয়ে দেখি উভয়পক্ষ মারামারি করছে। আমি সেখান থেকে বের হয়ে চলে আসি। কী নিয়ে মারামারির সূত্রপাত হয়েছে তা আমি জানি না। মামলার বিবাদী আমার ঘনিষ্ঠজন। তিনি বাদীকে টাকা পরিশোধ করেছেন। সামান্য একলাখ টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল বলে জানি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এজাহার দায়ের করেছেন, তা কিছুটা সংশোধন করতে বলা হয়েছে। এজন্য এখন্য মামলা রুজু হয়নি। তবে আটক থাকাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলা রুজু হলে তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসিব সাংবাদিক অবরুদ্ধ করার ঘটনা অস্বীকার করেন।

No comments

Powered by Blogger.